রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

শ্রী কেনগাল অঞ্জনেয়া স্বামী মন্দির



কেনগালে হনুমানের রহস্য

ভারতের সংস্কৃতি শুধু প্রাচীনই নয়, বরং আজও মানুষকে টানে তার রহস্য আর শক্তিতে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের মন্দির আর আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে গবেষণা হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, বিজ্ঞানীরা এখনো এর একটুকুও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। ভক্তরা বলেন—এটা ভগবানের শক্তি। আর বিজ্ঞানীরা খোঁজেন এর পিছনে যুক্তি। আসল সত্যি হলো, প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে এক অদ্ভুত এনার্জি আছে, যা মানুষকে শান্তি আর ভরসা দেয়।


মন্দিরের গল্প

বেঙ্গালুরু থেকে চান্নাপাট্টনার দিকে গাড়ি নিয়ে গেলে, ন্যাশনাল হাইওয়ে ২৭৫-এর ধারে চোখে পড়বে এক অসাধারণ মন্দির—শ্রী কেনগাল অঞ্জনেয়া স্বামী মন্দির। ভগবান হনুমানকে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরের শিকড় নাকি হোয়সলা যুগ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

‘কেনগাল’ নামের ভেতরেই লুকিয়ে আছে মন্দিরের বিশেষত্ব। “কেম্পু” মানে লাল, আর “কল্লু” মানে পাথর। ঠিক সেই লাল পাথর দিয়েই গড়া হয়েছে ভগবান হনুমানের মূর্তি। প্রায় ৫.৫ ফুট উঁচু এই প্রতিমা যেন নিজে থেকেই সিঁদুরে মোড়া। দাঁড়িয়ে থাকা হনুমানের এই রূপ শুধু চোখ ধাঁধানোই নয়, ভক্তদের মনে তৈরি করে অসংখ্য রহস্য আর গভীর বিশ্বাস।


রহস্যের ছোঁয়া

এই মন্দির নিয়ে যে বিশ্বাস ভক্তদের সবচেয়ে টানে, তা হলো—মূর্তিটি নাকি প্রতি বছর সামান্য করে বড় হচ্ছে! আরও আশ্চর্যের কথা হলো—হনুমানের দৃষ্টি ধীরে ধীরে উত্তর দিক থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে বলে বিশ্বাস করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই, তবে এই বিশ্বাসই মন্দিরকে ঘিরে তৈরি করেছে এক অলৌকিক আবহ, যা ভক্তদের আস্থাকে আরও দৃঢ় করে।


মন্দিরের শক্তি

প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি-র দিনে, অর্থাৎ উত্তরায়ণের প্রথম দিনে, সূর্যের আলো একেবারে সোজা এসে পড়ে ভগবান হনুমানের ওপর। ভক্তরা একে অত্যন্ত শুভ মনে করেন। এখানকার আরেকটি জনপ্রিয় বিশ্বাস হলো—১২ বার প্রদক্ষিণ করলে নাকি যে কোনো মানত পূর্ণ হয়। যুগ যুগ ধরে অসংখ্য ভক্ত এখানে এসে মানসিক শান্তি আর ভগবানের আশীর্বাদ নিয়ে গিয়েছেন।


শেষকথা

শ্রী কেনগাল অঞ্জনেয়া স্বামী মন্দির কোনো সাধারণ মন্দির নয়। এখানে এলে সত্যিই মনে হয়—বিশ্বাস আর রহস্য একসাথে কাজ করছে। একবার গেলে আপনি টের পাবেন—শান্তি আর শক্তি, দুটোই যেন আপনাকে ঘিরে ধরছে। আর হনুমানের আশীর্বাদ ভরিয়ে দিচ্ছে ভেতরটা।

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

সম্পর্কে শান্তি — গীতার চিরন্তন উপদেশ

 

🕊️ সম্পর্কে শান্তি — গীতার চিরন্তন উপদেশ

১. ভালোবাসো, কিন্তু আসক্ত হয়ো না

“তোমার কাজ করার অধিকার আছে, কিন্তু তার ফল ভোগ করার অধিকার নেই।” — গীতা 
শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যখন আমরা প্রত্যাশা না রেখে মন দিয়ে কাজ করি, তখনই প্রকৃত শান্তি আসে। ভালোবাসো মন থেকে, কিন্তু ফলাফলের ওপর নির্ভর করো না—তাতে মানসিক চাপ কমে, সম্পর্কও মধুর হয়।


২. মনকে নিয়ন্ত্রণ করো, শান্তি খুঁজে পাবে

“যে ব্যক্তি মন জয় করতে পেরেছে, তার জন্য মনই সবচেয়ে বড় বন্ধু।” — গীতা 
ভিতরের শান্তি না থাকলে, বাইরের সম্পর্কেও অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রতিদিন কিছু সময় ধ্যান, আত্মসমালোচনা আর সচেতন উপস্থিতি অনুশীলন করো—তাতে প্রতিক্রিয়া নয়, সচেতন প্রতিধ্বনি জন্মায়।


৩. বিমুখ নয়, বিচ্ছিন্ন থেকো

“যোগে স্থিত হও, অর্জুন। নিজের কর্তব্য পালন করো, সফলতা বা ব্যর্থতার প্রতি আসক্তি রাখো না।” — গীতা 
বিচ্ছিন্নতা মানে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং ভালোবেসেও নিজের শান্তি অন্য কারো ওপর নির্ভর না রাখা। এতে সম্পর্ক হয় হালকা, কিন্তু গভীর—বন্ধন নয়, স্বাধীনতা তৈরি হয়।


৪. পরিবর্তনকে সহজভাবে মেনে নাও

“যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে। যা হচ্ছে, ভালোই হচ্ছে।” — গীতা 
সম্পর্কেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসবেই। যখন সেটা মেনে নিই, তখন দোষারোপ কিংবা অতিরিক্ত কষ্ট অনেকটাই কমে যায়।


৫. অহংকার নয়, জ্ঞান থেকে বলো ও কাজ করো

“যে ব্যক্তি সুখে ও দুঃখে বিচলিত হয় না এবং স্থির থাকতে পারে, সে মুক্তির যোগ্য হয়।” — গীতা 
যখন আমরা ধৈর্য, শ্রদ্ধা আর ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পর্কের সমস্যা মোকাবিলা করি, তখন ভালোবাসা ও শান্তি সহজেই জায়গা পায়।


🌿 সম্পর্কের শান্তির জন্য সহজ গীতা-অনুপ্রাণিত অভ্যাস

🔹 প্রতিদিন সকালে বলো: “আমি ভালোবাসা দিতে পারি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে নয়।”

🔹 তর্ক বা রাগের মুহূর্তে নিজেকে জিজ্ঞেস করো: “আমি কি সচেতনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি, না অহং থেকে?”

🔹 রাগ বা ক্ষোভ ছাড়তে মনে রেখো: “অন্যকে আমি বদলাতে পারি না, কিন্তু নিজে শান্ত থাকতে পারি।”

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

সব ভুল কি ক্ষমা করা উচিত ? ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের কী শেখায় ?


          


আধুনিক আধ্যাত্মিকতা যেখানে নিঃশর্ত ক্ষমার কথা বলে, সেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শেখান কাকে, কখন, কেন ক্ষমা করতে হয়।

🧠 নিঃশর্ত ক্ষমা না, বরং বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত

আজকাল অনেকেই বলে, “সবকিছু ক্ষমা করে দাও, মন হালকা হবে।” কিন্তু সত্যি কি সবসময় ক্ষমা করাই ভালো? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু বলেছিলেন একটু ভেবেচিন্তে ক্ষমা করতে হবে। কারণ, চোখ বুজে ক্ষমা করা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।

⚔️ অর্জুনকে কৃষ্ণ যা বলেছিলেন

যুদ্ধে যাওয়ার আগে অর্জুন দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন—ভাবছিলেন , যুদ্ধ করা কি ঠিক হবে?
তখন কৃষ্ণ স্পষ্ট করে বললেন: “চুপ করে বসে থাকা মানেই অন্যায়কে জিতে যেতে দেওয়া।”
এখানে প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই কর্তব্য।

🙏 ক্ষমা মানে কি সব ভুল মাফ?

না! ক্ষমা একটা ভাবনা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
যারা বারবার কষ্ট দেয়, তাদের ক্ষমা করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কৃষ্ণও শিশুপালকে ১০০ বার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর? তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এই গল্পটা বোঝায় — ধৈর্যেরও একটা সীমা থাকে।
 
🎯 তাহলে কাকে ক্ষমা করব?

ক্ষমা করা উচিত সেই মানুষকে,
✅ যে সত্যি অনুতপ্ত
✅ যে নিজের ভুল বুঝেছে এবং বদলাতে চায়
ক্ষমা যদি তোমার মনের ভার কমায়, শান্তি দেয় — তাহলে করো।
কিন্তু যদি কেউ সেই একই ভুল বারবার করে, তাহলে আর না!
ক্ষমা কোনো সোশ্যাল প্রেশারে নয় — এটা আত্মসম্মানের ব্যাপার।


পরিশেষে বলতে চাই ,ক্ষমা দুর্বলতার নয়, বড় মনের পরিচয়। কিন্তু সেটাও বুদ্ধির সঙ্গে করতে হয়।
সব কিছুতেই "ক্ষমা করো, মাফ করে দাও" বলার যুগ শেষ — এখন সময় এসেছে বুঝে শুনে, সম্মান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শেখান — ক্ষমা করো, তবে বুদ্ধি নিয়ে। নাহলে অধর্ম মাথা চাড়া দেবে।

বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫

দারিদ্র্য় দহন শিব স্তোত্রম্



বিশ্বেশ্বরায় নরকার্ণব তারণায়

কর্ণামৃতায় শশিশেখর ধারণায় ।

কর্পূরকাংতি ধবলায় জটাধরায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 1 ॥


গৌরীপ্রিয়ায় রজনীশ কলাধরায়

কালাংতকায় ভুজগাধিপ কংকণায় ।

গংগাধরায় গজরাজ বিমর্ধনায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 2 ॥


ভক্তপ্রিয়ায় ভবরোগ ভয়াপহায়

উগ্রায় দুঃখ ভবসাগর তারণায় ।

জ্য়োতির্ময়ায় গুণনাম সুনৃত্যকায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 3 ॥


চর্মাংবরায় শবভস্ম বিলেপনায়

ফালেক্ষণায় মণিকুংডল মংডিতায় ।

মংজীরপাদয়ুগলায় জটাধরায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 4 ॥


পংচাননায় ফণিরাজ বিভূষণায়

হেমাংকুশায় ভুবনত্রয় মংডিতায়

আনংদ ভূমি বরদায় তমোপয়ায় ।

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 5 ॥


ভানুপ্রিয়ায় ভবসাগর তারণায়

কালাংতকায় কমলাসন পূজিতায় ।

নেত্রত্রয়ায় শুভলক্ষণ লক্ষিতায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 6 ॥


রামপ্রিয়ায় রঘুনাথ বরপ্রদায়

নাগপ্রিয়ায় নরকার্ণব তারণায় ।

পুণ্য়ায় পুণ্যভরিতায় সুরার্চিতায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 7 ॥


মুক্তেশ্বরায় ফলদায় গণেশ্বরায়

গীতাপ্রিয়ায় বৃষভেশ্বর বাহনায় ।

মাতংগচর্ম বসনায় মহেশ্বরায়

দারিদ্র্যদুঃখ দহনায় নমশ্শিবায় ॥ 8 ॥


বসিষ্ঠেন কৃতং স্তোত্রং সর্বরোগ নিবারণম্ ।

সর্বসংপত্করং শীঘ্রং পুত্রপৌত্রাদি বর্ধনম্ ।

ত্রিসংধ্য়ং যঃ পঠেন্নিত্য়ং স হি স্বর্গ মবাপ্নুয়াত্ ॥ 9 ॥


॥ ইতি শ্রী বসিষ্ঠ বিরচিতং দারিদ্র্যদহন শিবস্তোত্রং সংপূর্ণম্ ॥

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫

সাবিত্রী ও সত্যবানের গল্প



প্রাচীনকালে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর অনেক বছর ধরে সন্তান ছিল না। বহু প্রার্থনা ও যজ্ঞ করার পর দেবী সাভিত্রী তাঁকে কন্যা সন্তান দান করেন। কন্যার নাম রাখা হয় সাবিত্রী।


সাবিত্রী বড় হয়ে ওঠে, এক গুণবতী, সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী নারী হিসেবে। অনেক রাজপুত্র তাঁকে বিয়ে করতে চাইলেও সে নিজের জীবনসঙ্গী নিজে বেছে নিতে চায়। একদিন সে এক বনবাসী যুবক সত্যবান-এর প্রেমে পড়ে। সত্যবান ছিলেন রাজবংশীয়, কিন্তু পিতার রাজ্য হারিয়ে বনেই বাস করতেন।


ঋষি নারদ সাবিত্রীকে সাবধান করে বলেন, “সত্যবানের জীবনের আয়ু খুব অল্প। মাত্র এক বছরের মধ্যে সে মারা যাবে।” কিন্তু সাবিত্রী অটল থাকল। সে বলে, “আমি একবার মন থেকে যাকে গ্রহণ করেছি, সে-ই আমার স্বামী। আমি তার সঙ্গেই থাকব।”


বিয়ে হয়ে যায়। সাবিত্রী সত্যবানের সাথে বনেই থাকতে শুরু করে। দিন যায় । সাবিত্রী, সত্যবানের সঙ্গে যায় বনে কাঠ কাটতে।
বনে হঠাৎ সত্যবান মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই আসে যমরাজ — মৃত্যুর দেবতা, সত্যবানের প্রাণ নিয়ে যাওয়ার জন্য।
সাবিত্রী যমরাজকে অনুসরণ করতে থাকে। যমরাজ বলে, “তুমি ফিরে যাও, স্ত্রী হয়ে তুমি নিজের ধর্ম পালন করেছো।”


কিন্তু সাবিত্রী বলে, “আমি ধর্মের পথে চলছি, তাই স্বামীর সঙ্গ ছেড়ে যেতে পারি না।” সে বুদ্ধিমত্তার সাথে যমরাজকে নানা যুক্তি দেয়।
যমরাজ খুশি হয়ে এক এক করে তিনটি বর দিতে রাজি হন।
১. তার শ্বশুর-শাশুড়ির চোখ যেন ফিরে আসে
২. তাদের রাজ্য যেন ফিরে পাওয়া যায়
৩. সে যেন বহু সন্তান লাভ করে


তখন যমরাজ বুঝতে পারেন, যদি সত্যবান ফিরে না আসে, তবে সাবিত্রী সন্তান লাভ করতে পারবে না। অতএব, তিনি সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে দেন।
সাবিত্রী ফিরে আসে, সত্যবান জেগে ওঠে। এভাবেই এক সতী নারীর সাধনা ও প্রেম যমরাজকেও পরাজিত করে।
এই কাহিনি আজও বিবাহিত নারীদের মধ্যে এক মহান আদর্শ হয়ে আছে, যেখানে প্রেম, নিষ্ঠা ও বুদ্ধিমত্তা একত্রে সত্যিকারের শক্তির প্রকাশ ঘটায়।

মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

নিত্যদিনের জলের টোটকা



আজ কিছু জলের টোটকা পড়লাম , একদম সহজ। তাই শেয়ার করলাম। 

  • প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে সামান্য হলুদের গুঁড়ো জলের সঙ্গে মিশিয়ে সারা বাড়িতে ছিটিয়ে দিন। ভাল আর্থিক উন্নতি হয়।
  • 'ঘরের ঈশান কোণে একটা মাটি বা তামার পাত্রে জলপূর্ণ করে রেখে দিন। আর্থিক উন্নতি দ্বিগুণ হবে। জল শুকিয়ে গেলে বা অপরিষ্কার হয়ে গেলে তখন পাত্রটা পরিষ্কার করে আবার জলপূর্ণ করে রেখে দিন।
  • একটা পাত্রে গঙ্গাজল বা কোনও পরিষ্কার জল নিন। পাত্রটি হাতে রেখে গায়ত্রী মন্ত্র জপ করুন। তার পর সেই জলটা সারা বাড়িতে ছিটিয়ে দিন। এর ফলে বাড়িতে থাকা সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হবে।
  • রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটা পাত্র ভর্তি করে জল রেখে দিন। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জলটা গাছের গোড়ায় ঢেলে দিন, এতে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক চাপের হাত থেকে মুক্তি মিলবে ।

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪

মা সরস্বতীর দ্বাদশ নাম স্তোত্র



প্রথমং ভারতী নাম ,দ্বিতীয়ং চ সরস্বতী।
তৃতীয়ং সারদা দেবী ,চতুর্থং হংসবাদিনী॥
পঞ্চমং জগতী খ্যাতা, ষষ্ঠং বাগীশ্বরী তথা।
সপ্তমং কুমুতি প্রোক্তা,অষ্টনং ব্রহ্মচারিণীং॥
নবমং বুদ্ধিদাত্রী চ, দশমং বরদায়িণী।
একাদশং চন্দ্রকান্তি, র্দাদশং ভুবনেশ্বরী॥
দ্বাদশৈতানি নামানিত্রিসন্ধ্যাং যঃপঠেন্নরঃ।
জিহাগ্রে বসতে নিত্যং ব্রহ্মরূপা সরস্বতী ॥

🙏জয় মা সরস্বতী ,হে মা সরস্বতী সবাইকে বিদ্যা ,বুদ্ধি জ্ঞান প্রদাণ করুন 🙏

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪

বাংলায় নবগ্রহ বীজমন্ত্র


সূর্যের বীজমন্ত্র
‘ওম হাং হীং হৌং সঃ সূর্যায় নমঃ’
👉রবিবার সকালে স্নানের পরে ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করা ভালো |
চন্দ্র বীজমন্ত্র
‘ওম শ্রাং শ্রীং শ্রৌং সঃ চন্দ্রমসে নমঃ’
👉সোমবার সকালে ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করা ভালো |
মঙ্গল বীজমন্ত্র
‘ওম ক্রাং ক্রীং ক্রৌং সঃ ভৌমায় নমঃ’
👉
মঙ্গলবার সকালে ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করা ভালো |
বুধ বীজমন্ত্র
‘ওম ব্রাং ব্রীং ব্রৌং সঃ বুধায় নমঃ’
👉বুধের বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |
বৃহস্পতি বীজমন্ত্র
‘ওম গ্রাং গ্রীং গ্রৌং সঃ গুরুবে নমঃ’
👉রোজ সন্ধেবেলা এই বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |
শুক্র বীজমন্ত্র
‘ওম দ্রাং দ্রীং দ্রৌং সঃ শুক্রায় নমঃ’
👉শুক্রবার সকালে স্নানের পর এই বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |
শনি বীজমন্ত্র
‘ওম প্রাং প্রীং প্রৌং সঃ শনৈশ্চরায় নমঃ’
👉শনিবার এই বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |
রাহু বীজমন্ত্র
‘ওম ভ্রাং ভ্রীং ভ্রৌং সঃ রাহবে নমঃ’
👉
রোজ রাতে এই বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |
কেতু বীজমন্ত্র
‘ওম স্রাং স্রীং স্রৌং সঃ কেতবে নমঃ’
👉রোজ রাতে এই বীজমন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ভালো |

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ভ্রামরী প্রাণায়াম কীভাবে করবেন?



ভ্রমর’ শব্দের অর্থ মৌমাছি, আর ভ্রামরী প্রাণায়ামের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি করতে করতে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ করতে হয়। কীভাবে এই প্রাণায়াম করবেন?


  1. প্রথমে, একটি মাদুরে বসে শিরদাঁড়া সোজা রাখুন। পা মুড়ে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন। হাতগুলো হাঁটুর উপরে রাখুন এবং চোখ বন্ধ করে শিথিল হন।
  2. এরপর, মুখ বন্ধ রাখুন তবে দাঁতের মাঝে কিছুটা ফাঁক রাখুন। হাত দুটো পাশে সোজা করে কানের কাছে আনুন এবং মাঝের আঙুল দিয়ে কান বন্ধ করুন।
  3. ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং শ্বাস ছাড়ার সময় গলা দিয়ে মৌমাছির মতো গুনগুন শব্দ করুন। মুখ বন্ধ রেখে শব্দ গলা থেকে আসবে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় যতটা সম্ভব ধীরে ধীরে শব্দ করবেন।
  4. গুনগুন শব্দ করার সময় গলা, মাথা ও চোয়ালে মৃদু কম্পন অনুভব করবেন, যা মন ও শরীরকে চাপমুক্ত করবে। এক রাউন্ড শেষে আবার শ্বাস নিন এবং এই প্রক্রিয়াটি ৫-৭ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

উপকারিতা

ভ্রামরী প্রাণায়াম মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত করে, স্নায়ুকে শিথিল করে, রাগ ও উদ্বেগ দূর করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত অভ্যাসে একাগ্রতা, মনঃসংযোগ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মধু ও পিঁপড়ের গল্প

এক ফোঁটা মধু মাটিতে পড়ে ছিল, তার পাশ দিয়ে একটি ছোট পিঁপড়া যাচ্ছিল। মধুর ঘ্রাণ পেয়ে থেমে গেল পিঁপড়াটি। ভাবল, একটু মধু খেয়ে নেই, তারপর সামনে যাব। প্রথম চুমুক খেলো, খুব মজা পেল। ভাবল, আরেকটু খাই। আরও এক চুমুক খেলো। খেতে খেতে সামনে চলতে থাকল, আর ঠোঁট থেকে মধু চেটে খাচ্ছিল। ভাবল, আরেকটু খেলে মন্দ হবে না। 


ফিরে গিয়ে আবার মধু খেতে শুরু করল। এবার পুরো মধুর উপর উঠে বসে মধু খেতে লাগল। খেতে খেতে তার পেট ফুলে গেল, আর ধীরে ধীরে তার পা দুটো মধুর মধ্যে ডুবে যেতে লাগল। তখন টনক নড়ল, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। মধু থেকে বের হতে আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। 


মধুতে পুরো শরীর আটকে গেল, আর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত মধুর মধ্যে আটকে পড়েই মারা গেল পিঁপড়াটি।


সারাংশ : দুনিয়ার মোহ অনেকটা মধুর মতো। অল্পতে তুষ্ট থেকে সৎভাবে জীবন কাটালে মানুষ বেঁচে যাবে। কিন্তু অতিরিক্ত লোভে পড়ে সব কিছু পেতে চাইলে, একদিন সেই মোহের জালে আটকে ধ্বংস হয়ে যাবে।

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শ্রী গণেশ মন্ত্র

শ্রী গণেশ


বুধবারের দিনে গণেশের পূজা করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনে উপবাস করে পূজা করলে ভক্তরা গণেশের কৃপা লাভ করেন এবং জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি দূর হয়। হিন্দু ধর্ম মতে, গণেশ যে কোনও শুভ কাজের আগে পূজিত হন, কারণ তিনি বিঘ্নহর্তা। তাঁর আশীর্বাদে জীবনের সব দুঃখ ও দুর্দশা দূর হয়। বিশেষভাবে, বুধবারে কিছু নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়, যা জীবনের সমস্যাগুলি সমাধানে সাহায্য করে। এই দিন মন্ত্র জপের মাধ্যমে ভক্তরা গণেশের কাছ থেকে আশীর্বাদ কামনা করেন এবং জীবনের সব দুঃখ থেকে মুক্তি পান।

গণেশ পূজা মন্ত্র:

একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।
বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।

অর্থাৎ, যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।


বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভ।
নির্বিঘ্ন কুরু মে দেব সর্বকার্য়েষু সর্বদা।।

গণেশকে প্রসন্ন করার সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্র এটি। যেকোন কাজ শুরুর আগে এই মন্ত্র জপ করলে সেই কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।

ধ্যান মন্ত্র:

ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দম্মদগন্ধলুব্ধ মধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাত বিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দুরশোভাকরং,
বন্দেশৈল সুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।

মন্ত্র: ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ বা ‘ওঁ গাং গণেশায় নমঃ

অর্থাৎ, যিনি খর্বাকৃতি, স্থূল শরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমর সমূহের দ্বারা যাঁর গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাঁর দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।

গণেশ গায়ত্রী মন্ত্র

ওম একদন্তায় বিদ্মহে বক্রতুণ্ডায় ধীমহি তন্নো বুদ্ধি প্রচোদয়াৎ।।

গণেশ বন্দনা:

বন্দ দেব গজানন বিঘ্ন বিনাশন।
নমঃ প্রভু মহাকায় মহেশ নন্দন।।
সর্ববিঘ্ন নাশ হয় তোমার শরণে।
অগ্রেতে তোমার পূজা করিনু যতনে।
নমো নমো লম্বোদর নমঃ গণপতি।
মাতা যার আদ্যাশক্তি দেবী ভগবতী।।
সর্বদেব গণনায় অগ্রে যার স্থান।
বিধি-বিষ্ণু মহেশ্বর আর দেবগণ।।
ত্রিনয়নী তারার বন্দিনু শ্রীচরণ।
বেদমাতা সরস্বতীর লইনু শরণ।।

মন্ত্রঃ – ওঁ গাং গণেশায় নমঃ।


প্রণাম মন্ত্র:

একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।
বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।

অর্থাৎ,যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শ্রী অষ্টলক্ষ্মী স্তোত্রম

 



আদি লক্ষ্মী

সুমনস বন্দিত সুন্দরি মাধবি চন্দ্র সহোদরি হেমমযে।
মুনিগণ বন্দিত মোক্ষপ্রদায়িনী মঞ্জুল ভাষিণী বেদনুতে।
পঙ্কজবাসিনী দেবসুপূজিত সদ-গুণ বর্ষিণী শান্তিনুতে।
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী আদিলক্ষ্মী পরিপালয় মাম্ ।

দেবী ধনলক্ষ্মী

ধিমিধিমি ধিন্ধিমি ধিন্ধিমি দিন্ধিমী দুন্দুভি নাদ সুপূর্ণময়ে।
ঘুমঘুম ঘুঙ্ঘুম ঘুঙ্ঘুম ঘুঙ্ঘুম শঙ্খনিনাদ সুবাদ্যনুতে।
বেদ পুরাণেতিহাস সুপূজিত বৈদিক মার্গ প্রদর্শযুতে।
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী ধনলক্ষ্মী রূপেণ পালয় মাম্।

দেবী ধান্যলক্ষী

অহিকলি কল্মষ নাশিনী কামিনী বৈদিকরূপিণী বেদময়ে। 
ক্ষীরসমুদ্ভব মঙ্গলরূপিণী মন্ত্রনিবাসিনী মন্ত্রনুতে।
মঙ্গলদায়িনী অম্বুজবাসিনী দেবগণাশ্রিত পাদযুতে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী ধান্যলক্ষ্মী পরিপালয় মাম্।

গজ লক্ষ্মী

জয় জয় দুর্গতিনাশিনী কামিনী বৈদিক রূপিণী বেদমযে। 
রধগজ তুরগপদাতি সমাবৃত পরিজন মণ্ডিত লোকনুতে। 
হরিহর ব্রহ্ম সুপূজিত সেবিত তাপ নিবারিণী পাদযুতে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী গজলক্ষ্মী রূপেণ পালয় মাম্।

দেবী সন্তানলক্ষ্মী

অয়ি খগবাহিনী মোহিনী চক্রিণী রাগবিবর্ধিনী জ্ঞানময়ে। 
গুণগণবরিধী লোকহিতৈষিণী সপ্তস্বর ভূষিত গাননুতে। 
সকল সুরাসুর দেব মুনীশ্বর মানব বন্দিত পাদযুতে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী সন্তানলক্ষ্মী পরিপালয় মাম্।

দেবী বীরলক্ষ্মী বা ধৈর্যলক্ষ্মী

জয়বরবর্ষিণী বৈষ্ণবী ভার্গবী মন্ত্র স্বরূপিণী মন্ত্রময়ে। 
সুরগণ পূজিত শীঘ্র ফলপ্রদ জ্ঞান বিকাসিনী শাস্ত্রনুতে। 
ভবভয়হারিণী পাপবিমোচনি সাধু জনাশ্রিত পাদযুতে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী ধৈর্যলক্ষ্মী সদাপালয় মাম্।

দেবী বিদ্যালক্ষ্মী

প্রণত সুরেশ্বরী ভারতী ভার্গবী শোকবিনাশিনী রত্নময়ে। 
মণিময় ভূষিত কর্ণবিভূষণ শান্তি সমাবৃত হাস্যমুখে। 
নবনিধিদায়িনী কলিমলহারিণী কামিত ফলপ্রদ হস্তযুতে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী বিদ্যালক্ষ্মী সদাপালয় মাম্।

দেবী বিজয়লক্ষ্মী

জয় কমলাসনি সদ্গতিদায়িনী জ্ঞানবিকাসিনী গানময়ে। 
অনুদিনমর্চিত কুঙ্কুম ধূসর ভূষিত বসিত বাদ্যনুতে। 
কনকধরাস্তুতি বৈভব বন্দিত শঙ্করদেশিক মান্যপদে। 
জয় জয় হে মধুসূদন কামিনী বিজয়লক্ষ্মী পরিপালয় মাম্।

শ্রীশ্রী মা লক্ষ্মীর অষ্টোত্তর শতনাম

পন্ডিত কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত
শতনাম স্তোত্র



পদ্মপলাশাক্ষি নাম জয় জয় জয় | ১
মহালক্ষ্মী নামে হয় সর্ব্বরোগ ক্ষয় || ২
সুরেশ্বরী নামে নতি করি ভক্তিভরে | ৩
হরিপ্রিয়া নাম স্মরি অন্তর-মাঝারে || ৪
পদ্মালয়া নামে লক্ষ্মী-পদে নমস্কার | ৫
সর্ব্বদাত্রী নামে হয় বিভব-সঞ্চার || ৬
বিশ্বেশ্বরী নামে ডাকি কমলা দেবীরে | ৭
ক্ষীরোদধিসুতা নাম স্মরি ভক্তিভরে || ৮
জগন্মাতা নামে নতি পদ্মযুগে করি | ৯
হৃদিমাঝে দয়াবতী নাম সদা স্মরি || ১০
ত্রৈলোক্যতারিণী নাম করি গো স্মরণ | ১১
বসুবৃষ্টিকরী নাম জগত-পাবন || ১২
সর্ব্বভূতহিতৈষিণী নামে নমস্কার | ১৩
দেবদেবেশ্বরী নাম সার হৈতে সার || ১৪
ভুবনপাবনী নাম স্মরি গো অন্তরে | ১৫
চপলা নামেতে নতি করি ভক্তিভরে || ১৬
ভুবন জননী নাম স্মরি বার বার | ১৭
আর্ত্তিহন্ত্রী নাম স্মরি অন্তর মাঝার || ১৮
ওগো দেবী তব নাম দারিদ্র-হরণী | ১৯
স্মরিলে দুঃখের নাম কমলবাসিনী || ২০
ললিতা নামেতে নতি তোমার চরণে | ২১
প্রদ্যুম্ন জননী নাম স্মরি হৃষ্টমনে || ২২
শরণ্যা নামেতে হয় দুঃখ বিনাশন | ২৩
শীলাবতী নামে স্মরে যত ভক্তগণ || ২৪
পিতৃ-মাতৃরূপা নাম স্মরি হৃদিমাঝে | ২৫
সম্পত্তিদায়িনী নামে সবে সুখে মজে || ২৬
বিদ্যাদাত্রী নাম তব জগতে প্রচার | ২৭
কল্যাণী নামেতে তোমা করি নমস্কার || ২৮
সাগর-নন্দিনী নাম সাগর-ভবনে | ২৯
গুণরাশি-প্রসবিনী তোমা সবে ভণে || ৩০
ক্ষমাশীলা নাম তব বিদিত ভুবন | ৩১
ভগবতী নামে তোমা ডাকে সর্ব্বজন || ৩২
শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপিণী তোমারই নাম | ৩৩
সম্পত্তি-রূপিণী হয় তোমার আখ্যান ||৩৪
পার্ব্বতী নামেতে তুমি বিরাজ কৈলাসে | ৩৫
স্বর্গলক্ষ্মী নাম তব অমর নিবাসে || ৩৬
মর্ত্ত্যলক্ষ্মী নাম তব ভূতলে প্রচার | ৩৭
গৃহলক্ষ্মী নাম খ্যাত গৃহীর আগার || ৩৮
বৈকুন্ঠে বৈকুন্ঠপ্রিয়া তব এক নাম | ৩৯
গৃহে গৃহে ঘোষে তব তুলসী আখ্যান || ৪০
ব্রহ্মলোকে তব নাম সাবিত্রী সুন্দরী | ৪১
বৃন্দাবন-বনে নাম ধর রাসেশ্বরী || ৪২
গোলকে তোমার নাম কৃষ্ণপ্রাণাধিকা | ৪৩
ভক্ত-হৃদে তব নাম সর্ব্বার্থ-সাধিকা || ৪৪
মালতী নামেতে থাক মালতী-কাননে | ৪৫
চন্দ্রা নামে শোভা পাও চন্দনের বনে || ৪৬
সুন্দরী তোমার নাম শতশৃঙ্গে জানি | ৪৭
কুন্দবনে কুন্ডদন্তী নামে খ্যাত তুমি || ৪৮
পদ্মাবতী নাম তব হয়. পদ্মবনে | ৪৯
কৃষ্ণপ্রিয়া তব নাম ভান্ডীর-কাননে || ৫০
কেতকী-কাননে তব সুশীলা আখ্যান | ৫১
রাজগৃহে রাজলক্ষ্মী তব এক নাম || ৫২
আত্মবিদ্যা নামে তুমি খ্যাত সর্ব্বস্থানে | ৫৩
সিদ্ধগণ ডাকে তোমা সিদ্ধিদাত্রী নামে || ৫৪
এক নাম ধর তুমি শ্রীকদম্বমালা | ৫৫
কোচবধূপুরে তুমি কোচরাজবালা || ৫৬
সুমতি নামেতে তুমি খ্যাত সর্ব্বস্থান | ৫৭
কুমতি নাশিনী হয় তব এক নাম || ৫৮
এক নাম ধর তুমি সুপ্রিয়বাদিনী | ৫৯
কুলিনা তোমার নাম ওগো সুভাষিণী || ৬০
স্বাহা নামে শোভা পাও অগ্নির গোচরে | ৬১
স্বধা নাম ধর সদা পিতৃলোকপুরে || ৬২
যজ্ঞবিদ্যা তব নাম জগতে প্রচার | ৬৩
গুহ্যবিদ্যা নামে তোমা করি নমস্কার || ৬৪
আন্বীক্ষিকী তব নাম বিদিত ভুবন | ৬৫
দন্ডনীতি বলি নাম করহ ধারণ || ৬৬
জগদ্রূপা নামে তুমি বিদিত জগতে | ৬৭
সুধা নামে খ্যাত তুমি শশাঙ্কপুরেতে || ৬৮
এক নাম মেধা তুমি করিছ ধারণ | ৬৯
শ্রদ্ধা নামে ডাকে তোমা শ্রদ্ধাশীল জন || ৭০
সর্ব্বত্র বিদিত তুমি মহাবিদ্যা নামে | ৭১
মৃতসঞ্জীবনী নাম শমন-ভবনে || ৭২
মহাভাগা এক নাম জানি গো তোমার | ৭৩
সর্ব্বযজ্ঞময়ী নাম সর্ব্বত্র প্রচার || ৭৪
মোক্ষদা নামেতে কর মোক্ষ বিতরণ | ৭৫
সুরভি নামেতে কর গো-ধন রক্ষণ || ৭৬
সুখদা নামেতে সুখ দেও সবাকারে | ৭৭
হর্ষদা নামেতে তোমা স্মরি বারে বারে || ৭৮
শ্রীদাত্রী তোমার নাম করি গো স্মরণ | ৭৯
শস্যা নামে কর তুমি শস্য বিতরণ || ৮০
মহাদেবী তব নাম হিমালয়-ঘরে | ৮১
সুমেরুবাসিনী নাম সুমেরু-শিখরে || ৮২
ধর্ম্মদাত্রী তব নাম ধর্ম্মের গোচর | ৮৩
প্রভাবতী নামে ডাকে সতত ভাস্কর || ৮৪
পরমার্থদাত্রী নাম করহ ধারণ | ৮৫
ক্রোধহীনা তব নাম বিদিত ভুবন || ৮৬
হরিদাস্যপ্রদায়িনী আখ্যান তোমার | ৮৭
কারণরূপিণী নাম জগতে প্রচার || ৮৮
অসারহারিণী নাম খ্যাত সর্ব্বস্থানে | ৮৯
নারায়ণ পরায়ণা নামে তোমা ভণে || ৯০
এক নাম ধর তুমি মহাপুণ্যবতী | ৯১
নন্দিকেশী নাম তব খ্যাত বসুবতী || ৯২
শচী নামে শোভা পাও দেবরাজপুরে | ৯৩
ভোগবতী নামে থাক পাতাল-নগরে || ৯৪
অরিষ্টনাশিনী নাম জগতে প্রচার | ৯৫
হরিহৃদিবিলাসিনী হরির আগার || ৯৬
একবীরা নাম তুমি করহ ধারণ | ৯৭
ভ্রামরী নামেতে কর ভুবন ভ্রমণ || ৯৮
বিরোধিনী তব নাম খ্যাত ভূমন্ডলে | ৯৯
দিগ্ গজগণেরা তোমা বিধাতৃকা বলে || ১০০
শিবদূতী নাম তব জগতে প্রচার | ১০১
ষট্ রূপা তব নাম বেদের মাঝার || ১০২
হুঙ্কাররূপিণী নাম সমর-অঙ্গনে | ১০৩
জৃম্ভণী নামেতে খ্যাত যোদ্ধার সদনে || ১০৪
ভক্তাভিষ্টবিধায়িণী তব এক নাম | ১০৫
বিনোদিনী নামে তুমি খ্যাত সর্ব্ব স্থান || ১০৬
মদন-দমনী নাম মদনের পুরে | ১০৭
শ্রীরতিসুন্দরী নাম রতির গোচরে || ১০৮

নামমালা ভক্তিভরে করিয়া শ্রবণ |
শ্রীলাভ করেন পুনঃ অমর-রাজন ||


ফলশ্রুতি

এই স্তব ভক্তিভরে করিলে শ্রবণ |
কিম্বা অধ্যয়ণ করে যদি কোন জন ||
পাতক তাহার দেহে কভু নাহি রয় |
পুত্রহীন জন পায় সুপুত্র নিশ্চয় ||
ভ্রষ্টরাজ্য রাজা পায় ইহার প্রসাদে |
কীর্ত্তিহীন কীর্ত্তি লভে জানিবে জগতে ||
যশোলাভ ধনলাভ ইহাতেই হয় |
কল্যাণজনক স্তোত্র শাস্ত্রে হেন কয় ||
তাই বলি ভক্তগণ একান্ত অন্তরে |
সদা শুন, সদা পড় ভক্তি সহকারে ||
কমলে কমলে বলি ডাক নিরন্তর |
ডঙ্কা মারি যাবে চলি অমর-নগর ||

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শ্রী দুর্গা অষ্টোত্তর শত নাম স্তোত্রম্



দুর্গা শিবা মহালক্ষ্মী-র্মহাগৌরী চ চংডিকা ।
সর্বজ্ঞা সর্বলোকেশী সর্বকর্মফলপ্রদা ॥ 1 ॥

সর্বতীর্থমযী পুণ্যা দেবযোনি-রযোনিজা ।
ভূমিজা নির্গুণাঽঽধারশক্তি শ্চানীশ্বরী তথা ॥ 2 ॥

নির্গুণা নিরহংকারা সর্বগর্ববিমর্দিনী ।
সর্বলোকপ্রিযা বাণী সর্ববিদ্যাধিদেবতা ॥ 3 ॥

পার্বতী দেবমাতা চ বনীশা বিংধ্যবাসিনী ।
তেজোবতী মহামাতা কোটিসূর্যসমপ্রভা ॥ 4 ॥

দেবতা বহ্নিরূপা চ সতেজা বর্ণরূপিণী ।
গুণাশ্রযা গুণমধ্যা গুণত্রযবিবর্জিতা ॥ 5 ॥

কর্মজ্ঞানপ্রদা কাংতা সর্বসংহারকারিণী ।
ধর্মজ্ঞা ধর্মনিষ্ঠা চ সর্বকর্মবিবর্জিতা ॥ 6 ॥

কামাক্ষী কামসংহর্ত্রী কামক্রোধবিবর্জিতা ।
শাংকরী শাংভবী শাংতা চংদ্রসূর্যাগ্নিলোচনা ॥ 7 ॥

সুজযা জযভূমিষ্ঠা জাহ্নবী জনপূজিতা ।
শাস্ত্রী শাস্ত্রমযী নিত্যা শুভা চংদ্রার্ধমস্তকা ॥ 8 ॥

ভারতী ভ্রামরী কল্পা করালী কৃষ্ণপিংগলা ।
ব্রাহ্মী নারাযণী রৌদ্রী চংদ্রামৃতপরিস্রুতা ॥ 9 ॥

জ্যেষ্ঠেংদিরা মহামাযা জগত্সৃষ্ট্যধিকারিণী ।
ব্রহ্মাংডকোটিসংস্থানা কামিনী কমলালযা ॥ 10 ॥

কাত্যাযনী কলাতীতা কালসংহারকারিণী ।
যোগনিষ্ঠা যোগিগম্যা যোগিধ্যেযা তপস্বিনী ॥ 11 ॥

জ্ঞানরূপা নিরাকারা ভক্তাভীষ্টফলপ্রদা ।
ভূতাত্মিকা ভূতমাতা ভূতেশা ভূতধারিণী ॥ 12 ॥

স্বধা নারীমধ্যগতা ষডাধারাদিবর্ধিনী ।
মোহিতাংশুভবা শুভ্রা সূক্ষ্মা মাতা নিরালসা ॥ 13 ॥

নিম্নগা নীলসংকাশা নিত্যানংদা হরা পরা ।
সর্বজ্ঞানপ্রদাঽঽনংতা সত্যা দুর্লভরূপিণী ॥ 14 ॥

সরস্বতী সর্বগতা সর্বাভীষ্টপ্রদাযিনী ।

ইতি শ্রীদুর্গাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রং সমাপ্তম্ ॥

শ্রী মহিষাসুর মর্দিনী স্তোত্রম্

 


অযি গিরিনংদিনি নংদিতমেদিনি বিশ্ববিনোদিনি নংদিনুতে

গিরিবরবিংধ্যশিরোধিনিবাসিনি বিষ্ণুবিলাসিনি জিষ্ণুনুতে ।
ভগবতি হে শিতিকংঠকুটুংবিনি ভূরিকুটুংবিনি ভূরিকৃতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 1 ॥

সুরবরবর্ষিণি দুর্ধরধর্ষিণি দুর্মুখমর্ষিণি হর্ষরতে
ত্রিভুবনপোষিণি শংকরতোষিণি কল্মষমোষিণি ঘোররতে । [কিল্বিষ-, ঘোষ-]
দনুজনিরোষিণি দিতিসুতরোষিণি দুর্মদশোষিণি সিংধুসুতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 2 ॥

অযি জগদংব মদংব কদংববনপ্রিযবাসিনি হাসরতে
শিখরি শিরোমণি তুংগহিমালয শৃংগনিজালয মধ্যগতে ।
মধুমধুরে মধুকৈটভগংজিনি কৈটভভংজিনি রাসরতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 3 ॥

অযি শতখংড বিখংডিতরুংড বিতুংডিতশুংড গজাধিপতে
রিপুগজগংড বিদারণচংড পরাক্রমশুংড মৃগাধিপতে ।
নিজভুজদংড নিপাতিতখংড বিপাতিতমুংড ভটাধিপতে [-চংড]
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 4 ॥

অযি রণদুর্মদ শত্রুবধোদিত দুর্ধরনির্জর শক্তিভৃতে
চতুরবিচারধুরীণ মহাশিব দূতকৃত প্রমথাধিপতে ।
দুরিতদুরীহ দুরাশয দুর্মতি দানবদূত কৃতাংতমতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 5 ॥

অযি শরণাগত বৈরিবধূবর বীরবরাভযদাযকরে
ত্রিভুবন মস্তক শূলবিরোধি শিরোধিকৃতামল শূলকরে ।
দুমিদুমিতামর দুংদুভিনাদ মহো মুখরীকৃত তিগ্মকরে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 6 ॥

অযি নিজহুংকৃতিমাত্র নিরাকৃত ধূম্রবিলোচন ধূম্রশতে
সমরবিশোষিত শোণিতবীজ সমুদ্ভবশোণিত বীজলতে ।
শিব শিব শুংভ নিশুংভ মহাহব তর্পিত ভূত পিশাচরতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 7 ॥

ধনুরনুসংগ রণক্ষণসংগ পরিস্ফুরদংগ নটত্কটকে
কনক পিশংগ পৃষত্কনিষংগরসদ্ভট শৃংগ হতাবটুকে ।
কৃতচতুরংগ বলক্ষিতিরংগ ঘটদ্বহুরংগ রটদ্বটুকে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 8 ॥

সুরললনা ততথেযি তথেযি কৃতাভিনযোদর নৃত্যরতে
কৃত কুকুথঃ কুকুথো গডদাদিকতাল কুতূহল গানরতে ।
ধুধুকুট ধুক্কুট ধিংধিমিত ধ্বনি ধীর মৃদংগ নিনাদরতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 9 ॥

জয জয জপ্য জযে জয শব্দপরস্তুতি তত্পর বিশ্বনুতে
ভণ ভণ ভিংজিমি ভিংকৃতনূপুর সিংজিতমোহিত ভূতপতে । [ঝ-, ঝিং-]
নটিতনটার্ধ নটীনটনাযক নাটিতনাট্য সুগানরতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 10 ॥

অযি সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনোহর কাংতিযুতে
শ্রিত রজনী রজনী রজনী রজনী রজনীকর বক্ত্রবৃতে ।
সুনযন বিভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমরাধিপতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 11 ॥

সহিত মহাহব মল্লম তল্লিক মল্লিত রল্লক মল্লরতে
বিরচিত বল্লিক পল্লিক মল্লিক ভিল্লিক ভিল্লিক বর্গ বৃতে ।
সিতকৃত ফুল্লসমুল্লসিতারুণ তল্লজ পল্লব সল্ললিতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 12 ॥

অবিরলগংডগলন্মদমেদুর মত্তমতংগজ রাজপতে
ত্রিভুবনভূষণ ভূতকলানিধি রূপপযোনিধি রাজসুতে ।
অযি সুদতীজন লালসমানস মোহনমন্মথ রাজসুতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 13 ॥

কমলদলামল কোমলকাংতি কলাকলিতামল ভাললতে
সকলবিলাস কলানিলয ক্রমকেলিচলত্কলহংসকুলে ।
অলিকুল সংকুল কুবলয মংডল মৌলিমিলদ্ভকুলালি কুলে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 14 ॥

করমুরলীরব বীজিত কূজিত লজ্জিতকোকিল মংজুমতে
মিলিত পুলিংদ মনোহর গুংজিত রংজিতশৈল নিকুংজগতে ।
নিজগুণভূত মহাশবরীগণ সদ্গুণসংভৃত কেলিতলে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 15 ॥

কটিতটপীত দুকূলবিচিত্র মযূখতিরস্কৃত চংদ্ররুচে
প্রণতসুরাসুর মৌলিমণিস্ফুর দংশুলসন্নখ চংদ্ররুচে ।
জিতকনকাচল মৌলিপদোর্জিত নির্ভরকুংজর কুংভকুচে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 16 ॥

বিজিত সহস্রকরৈক সহস্রকরৈক সহস্রকরৈকনুতে
কৃত সুরতারক সংগরতারক সংগরতারক সূনুসুতে ।
সুরথসমাধি সমানসমাধি সমাধি সমাধি সুজাতরতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 17 ॥

পদকমলং করুণানিলযে বরিবস্যতি যোঽনুদিনং স শিবে
অযি কমলে কমলানিলযে কমলানিলযঃ স কথং ন ভবেত্ ।
তব পদমেব পরংপদমিত্যনুশীলযতো মম কিং ন শিবে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 18 ॥

কনকলসত্কল সিংধুজলৈরনুসিংচিনুতে গুণরংগভুবং
ভজতি স কিং ন শচীকুচকুংভ তটীপরিরংভ সুখানুভবম্ ।
তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাসি শিবং
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 19 ॥

তব বিমলেংদুকুলং বদনেংদুমলং সকলং ননু কূলযতে
কিমু পুরুহূত পুরীংদুমুখী সুমুখীভিরসৌ বিমুখীক্রিযতে ।
মম তু মতং শিবনামধনে ভবতী কৃপযা কিমুত ক্রিযতে
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 20 ॥

অযি মযি দীনদযালুতযা কৃপযৈব ত্বযা ভবিতব্যমুমে
অযি জগতো জননী কৃপযাসি যথাসি তথাঽনুভিতাসিরতে ।
যদুচিতমত্র ভবত্যুররি কুরুতাদুরুতাপমপাকুরু তে [মে]
জয জয হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ 21 ॥

ইতি শ্রী মহিষাসুরমর্দিনি স্তোত্রম্ ॥

ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

 


নারায়ণের প্রণাম

ওঁ নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গো-ব্রাহ্মণহিতায় চ।

জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।

পাপোহহং পাপকর্মাহং পাপাত্মা পাপসম্ভবঃ।

ত্রাহি মাং পুন্ডরীকাক্ষ সর্ব্বপাপহরো হরি।।

শ্রীকৃষ্ণের প্রণাম

কৃষ্ণায় বাসুদেবায় দৈবকী নন্দনায় চ।

অশেষ ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।

হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধু জগত্পতে।

গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমোহস্তু তে।।

শ্রী শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর-শতনাম

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।

কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণা-সাগর।।

জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল বনমালী।

শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ-মুরারী।।

হরিনাম বিনে রে (ভাই) গোবিন্দ নাম বিনে।

বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।

দিন গেল মিছা কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।

না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ-চরণার বৃন্দে।।

কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।

মিছা মায়ায় বদ্ধ হয়ে বৃক্ষসম হৈনু।।

ফলরূপে পুত্র-কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।

কালরূপে সংসারেতে পক্ষ বাসা করে।।

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিলেন দৈবকী উদরে।

মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।

বসুদেব রাখি আইল নন্দের মন্দিরে।

নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।

শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১

যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।।২

উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর-গোপাল।৩

ব্রজবালক নাম রাখে-ঠাকুর রাখাল।।৪

সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।৫

শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল-রাজা ভাই।।৬

ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।৭

কালসোণা নাম রাখে রাধাবিনোদিনী।।৮

কুব্জা রাখিল নাম পতিত-পাবন-হরি।৯

চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী।।১০

অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।১১

কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।।১২

অণ্বমুনি নাম রাখে দেবচক্রপাণি।১৩

বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।।১৪

গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।১৫

অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।।১৬

পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ।১৭

দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।।১৮

সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র্য-ভঞ্জন।১৯

ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।।২০

দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।২১

পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর।।২২

যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।২৩

বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গালের ঠাকুর।।২৪

বাসুকী রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি-স্থিতি।২৫

ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথী।।২৬

নারদ রাখিল নাম ভক্ত-প্রাণধন।২৭

ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।।২৮

সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথী।২৯

জাম্ববতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।।৩০

বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।৩১

অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।।৩২

ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।৩৩

পঞ্চমুখে রামনাম গান ত্রিপুরারি।।৩৪

কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।৩৫

প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।।৩৬

বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর।৩৭

বিশ্বাবসু নাম রাখে নবজলধর।।৩৮

সম্বর্ত্তক রাখে নাম গোবর্দ্ধনধারী।৩৯

প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।।৪০

অদিতি রাখিল নাম আরতি-সূদন।৪১

গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জ্জুন।।৪২

মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল।৪৩

দয়ানিধি রাখে নাম দরিদ্র সকল।।৪৪

বৃন্দাবন-চন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদূতি।৪৫

বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।।৪৬

বাণীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।৪৭

লক্ষ্মীপতি রাখে নাম সুমন্ত্র সারথি।।৪৮

সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্য্যামী।৪৯

পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী।।৫০

পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি।৫১

নট-নারায়ণ নাম রাখিল সম্বাদি।।৫২

হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।৫৩

ললিতা রাখিল নাম দুর্ব্বাদলশ্যাম।।৫৪

বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন।৫৫

সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন।।৫৬

আয়ান রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ।৫৭

চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।।৫৮

জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।৫৯

গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম-ঘরণী।।৬০

ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।৬১

দুর্ব্বাসা রাখেন নাম অনাথের নাথ।।৬২

রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।৬৩

সর্ব্ব-যজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।।৬৪

উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী।৬৫

অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।।৬৬

গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।৬৭

সর্ব্ববেত্তা রাখে নাম দ্বৈপায়ণ ব্যাস।।৬৮

অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।৬৯

সুরলোক রাখে নাম অখিলের সার।।৭০

বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।৭১

স্বর্গবাসী রাখে নাম দেব পরাৎপর।।৭২

পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা।৭৩

রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।।৭৪

চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি-দমন।৭৫

পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।।৭৬

কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।৭৭

ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ-শশধর।।৭৮

সুমালী রাখিল নাম পুরুষ-প্রধান।৭৯

পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ-প্রাণ।।৮০

রজকিনী নাম রাখে নন্দের-দুলাল।৮১

আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের-গোপাল।।৮২

দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।৮৩

জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।।৮৪

অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি-চন্দ্রেশ্বর।৮৫

গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।।৮৬

মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।৮৭

জ্ঞানাতীত নাম রাখে সৌনকাদি সুত।।৮৮

রুদ্রগণ নাম রাখে দেব-মহাকাল।৮৯

বসুগণ রাখে নাম ঠাকুর দয়াল।।৯০

সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।৯১

সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।।৯২

ভাগুরি রাখিল নাম অগতির গতি।৯৩

মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।।৯৪

শুক্রাচার্য্য রাখে নাম অখিল-বান্ধব।৯৫

বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।।৯৬

যদুগণ রাখে নাম যদুকুলপতি।৯৭

অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।।৯৮

অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ।৯৯

সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।।১০০

পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী।১০১

ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী।।১০২

বঙ্কচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী।১০৩

মাধুরী রাখিল নাম গোপ-মনোহারী।।১০৪

মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট-পুরণ।১০৫

কুটিলা রাখিল নাম মদন-মোহন।।১০৬

মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মবন্ধ-নাশ।১০৭

ব্রজবধূ নাম রাখে পূর্ণ-অভিলাষ।।১০৮

শ্রী কেনগাল অঞ্জনেয়া স্বামী মন্দির

কেনগালে হনুমানের রহস্য ভারতের সংস্কৃতি শুধু প্রাচীনই নয়, বরং আজও মানুষকে টানে তার রহস্য আর শক্তিতে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের মন্দির আ...